৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২(বিবিনিউজ ):স্পাইনাল কর্ডের জটিলতার কারণে হাঁটাচলা করতে পারে না, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। এমন অসুস্থ রোগীদের জন্য সুসংবাদ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, তাঁরা স্পাইন কর্ড তৈরি করতে যাচ্ছেন। এ দিয়ে আজীবনের জন্য হুইলচেয়ারে বসে পড়া মানুষেরা আবারও হাঁটাচলা করতে পারবে।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট–এর খবরে বলা হয়েছে, গবেষণার জন্য ত্রিমাত্রিক এই ইমপ্ল্যান্টে মানুষের কোষ ব্যবহার করা হয়েছে। এ চিকিৎসাপদ্ধতি ইতিমধ্যে ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ৮০ শতাংশ সফলতা এসেছে।
সর্বশেষ এ গবেষণা চালিয়েছেন ইসরায়েলের তেল আবিব ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিকেল প্রকৌশল বিভাগের একদল গবেষক। এর আগে এমন গবেষণা চালিয়েছিলেন জার্মানির গবেষকেরা।
জার্মানির ওই গবেষকেরা অবশ্য স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা নিয়ে কাজ করছিলেন। গত জানুয়ারিতে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছিল, জার্মানির গবেষকেরা ইঁদুরকে হাঁটাতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে একধরনের প্রোটিন প্রবেশ করানো হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে ওই ইঁদুরের স্নায়ুতন্ত্র সচল করা হয়েছিল। এ কারণে ইঁদুর হাঁটতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা যে গবেষণা চালিয়েছেন, তা ভিন্ন। ইসরায়েলের গবেষক দলের প্রধান তাল দিভির বলেন, যে ব্যক্তির স্পাইনাল কর্ড তৈরি করা হবে, তাঁর পেটের চর্বি থেকে কোষ নেওয়া হবে। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে এই কোষ পরিবর্তন করা হবে। এ পদ্ধতিতে পেটের ওই কোষকে শরীরের যেকোনো ধরনের কোষে পরিবর্তিত করা সম্ভব হবে। এই বিজ্ঞানী বলেন, পরিবর্তিত এই কোষ থেকে স্পাইনাল কর্ড তৈরি করা হবে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যাডভান্স সায়েন্স–এ এই গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছে। ইসরায়েলের এ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ইতিমধ্যে ইঁদুরের স্পাইনাল কর্ড তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে তাঁরা এর চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা মানুষের ওপর চালাবেন। আর এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
তাল দিভির বলেন, বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ রয়েছে, যারা স্পাইনাল ইঞ্জুরির কারণে চলাফেরা করতে পারে না। এখনো এর কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, প্যারালাইজড প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা স্পাইনাল কর্ড তৈরি করা।’
